চুলের রূপ রহস্য

 

রেশমি ঘন কালো চুল কার না ভালো লাগে। আর সেই চুলের মালিক যদি আপনি হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই। সুন্দর সুশ্রী চুল আপনাকে করে তুলবে আকর্ষণীয়। চুল বংশগত কারণে নানা রকম হয়। কারো পাহাড়ি ঝর্ণার মত প্রবাহমান, কারো ঢেউ খেলানো, আবার কারো কারো কুঞ্জিত। কোকড়ানো চুল নিয়ে যারা খুব চিন্তিত কিংবা বিরক্ত তাদের জন্য বলা প্রয়োজন যে, পৌরাণিক কাহিনীর দেবী কিংবা রাজ রানী দের চুল কোঁকড়ানো হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।সুতরাং এই বিষয়ে হতাশ না হয়ে চুল আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল কিভাবে করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া ভালো। অন্যান্য চুলের মত কোঁকড়ানো চুলের সমস্যা গুলো প্রায় একই।

চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া,চুল পড়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া,চুল লাল হয়ে যাওয়া,খুশকি ইত্যাদি ছাড়াও সহজে না শুকানোর জন্য ফাংগাল ইনফেকশন কিংবা উকুন হওয়া এই সমস্যাগুলো রয়েছে। এসবের জন্য দায়ী করা যেতে পারে ক্রমবর্ধমান পলিউশন,সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি,পাঙ্গাস,আয়রনযুক্ত পানি,অতিরিক্ত কেমিকেল যুক্ত শ্যাম্পু, চুলের কালার ইত্যাদি অনউপযোগী ব্যবস্থা এবং উপাদানগুলোকে। চুলের আগা ফাটলে বুঝতে হবে চুল ভিশন শুষ্ক হয়ে পড়েছে।তখন ছেঁটে  নিতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে চুল ত্বকের অঙ্গ। ত্বকের উপরিতলের কোষ বা এপিডারমাল সেল থেকে চুলের উৎপত্তি। হেয়ার ফলিকল তৈরি হয় এপিডারমাল সেল থেকে। হেয়ার ফলিকলের একেবারে গভীরতম অংশ বা হেয়ার বাল্বের বিভাজনে তৈরি হয় নতুন নতুন কোষ। এই নবীন কোষগুলোতে বিশেষ ধরনের প্রোটিন জমতে থাকে, যা ত্বকের সাধারণ প্রোটিন থেকে কিছুটা আলাদা ও শক্ত। হেয়ার বাল্বের মধ্যের হেলানোসাইট চুলের রং সরবরাহ করে।

চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বাল্ব এর শিরা এবং উপশিরা থেকে। পেয়ার বাল্বের থেকে তৈরি হওয়া কোষগুলো একত্রে একটি দন্ডের মতো উপরিতলের দিকে বাড়তে থাকে। জীবন্ত কোষগুলো ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগোয়। জমে উঠা শক্ত কেরাটিনের একটি টালিতে পরিণত হয়। চুলের এই দন্ডের চারপাশে হেয়ার প্লিকদের দেওয়াল লেপ্টে থাকে। ত্বকের উপরিভাগের কাছে এসে হেয়ার শ্যাফট তার চারপাশের দেয়াল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি মোটা কালো সুতার মতো ত্বকের উপরিভাগ থেকে বেরিয়ে আসে। তাই চুলের পুষ্টির সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে,ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে এবং সেই রক্তে চুল তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপাদান ঠিক ভাবে থাকতে হবে। সুতারাং আগাগোড়া হেয়ার ফলিকল বা চুল তৈরির কারখানাটিও ঠিক থাকা দরকার।

ত্বকের গভীরে যেখানে হেয়ার বালবের কোষগুলো রয়েছে সেখান থেকে ক্রমাগত নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে চুলের দণ্ডের গোড়ার দিকে যুক্ত হচ্ছে এবং দন্ডটিকে ক্রমাগত উপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জীবন্ত কোষগুলো উপরের দিকে উঠার সময় কেরাটিন সঞ্চয় করছে, শক্ত হচ্ছে,মৃত কোষে পরিণত হচ্ছে। এই মৃত কোষের সমষ্টি চুল হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে ক্রমাগত এগিয়ে এসে অবশেষে ত্বকের বাহিরে চুল হিসেবে দেখা যায়।

Check Also

পুরুষের গুণাগুণ বিচার

সর্বতােভাবে সুখী হয় সেই ব্যক্তিই যার কণ্ঠস্বর , বুদ্ধি ও নাভি গভীর । হয় । …