প্রোটিকিন ডায়েটের মূল কথা

শুধু রোগ নিরাময় বা নিবারণ নয়,রসনার তৃপ্তির দিক থেকেও প্রোটিকিন ডায়েট অনবদ্য।রান্নায় তেল গি চিনি প্রবৃত্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ বলে এই ডায়েটে প্রতিটি খাদ্যের নিজস্ব স্বাদ-গন্ধ এক নতুন আবেদন এনে দেয় আহারির মনে।

এই ডায়েটে আমরা নতুন করে খেতে শুরু করি সেইসব খাদ্যবস্তুকে যাদের আমরা অনেকেই নাক উঁচু করে অবজ্ঞা করেছি।যেমন আটার রুটি,ঢেঁকিছাঁটা চালের সপেন বাত,সাধারণ ফল,সর্বপ্রকার সস্তা দামী সবজি,আলু প্রভৃতি।এত কথার পরেও বলতে হয় প্রোটিকিন ডায়েট কিন্তু সহজ নয়।নির্বাচিত খাদ্য গুলিকে মামুলি মনে হলেও যে কোন ব্যক্তির পক্ষে এই ডায়েট অনুসরণ এর অর্থ হচ্ছে খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে প্রচলিত সমস্ত বদ্ধমূল ভ্রান্ত ধারণা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে যথার্থ স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যে দৃঢ়সংকল্প হয়ে অভ্যস্ত হওয়া।যেসব মানুষ তথাকথিত পুষ্টিকর খাদ্য খেয়ে নিজেদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করেন,তারা জানলে চমকে যাবেন যে ঐসব পুষ্টিকর খাদ্যের অনেকগুলোই শরীরের পক্ষে মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর।এসব ক্ষতিকারক অথচ এতকাল ধরে গৌরবান্বিত খাদ্য গুলি হচ্ছে ডিম,মাখন যুক্ত দুধ,পনির,সয়াবিনের নানা খাবার,বিভিন্ন জাতের তেল প্রভৃতি।যারা বাছাই করা পুষ্টিকর খাদ্য খাচ্ছেন ভেবে তৃপ্ত আছেন,তারা জেনে আশ্চর্য হবেন যে বাজারী মধু,সব রকমের গুড় এবং নানারকম আশুদিত চিনি–সদীত সাদা চিনির চেয়ে কোন অংশেই কম ক্ষতিকর নয়।

যারা স্মেকস হিসেবে নানা রকম বাদাম নিশ্চিন্ত মনে সাগ্রহে মুখে ফেলছেন তারা দুঃখের সঙ্গে জানবেন যে দুনিয়ার প্রায় সব রকমের বাদাম যেমনঃ চিনাবাদাম,কাজুবাদাম, আখরোট,নারকেল প্রবৃত্তি ক্ষতিকর।কেননা এসব বাদামে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট বিদ্যমান।এই জন্য প্রোটিকিন ডায়েট অনুসরণ এর আরেক অর্থ হচ্ছে নানা ধরনের সৌদিতে বা বিকৃত খাদ্য,ফ্যাট,সর্বাধিক শর্করা,অতিরিক্ত লবণ ও প্রভৃতির বিরুদ্ধে এক আপোষহীন সংগ্রাম ঘোষণা।আজ সমস্ত পাশ্চাত্য জুড়ে দনী,নির্ধন,সুস্থ,অসুস্থ নির্বিশেষে অগণিত নারী পুরুষ এই প্রোটিকিন ডায়েট তথা প্রোটিকিন প্রোগ্রাম অনুসরণ করছে।এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্বাস্থ্য সচেতন মিডিয়া জগতের রথি মহারথীরা ও অনুসরণ করছে প্রোটিকিন প্রোগ্রামের মূল ডায়েট প্রোগ্রাম।আমরা ডিস এন্টিনার কল্যাণে প্রতিনিয়ত যাদের দেখছি টেলিভিশনের পর্দায়।সেই সাথে চমকিত হচ্ছি তাদের এমন সুস্থ আর সুগঠিত দেহবল্লরীর সৌন্দর্য দেখে।প্রকৃতপক্ষে প্রোটিকিন প্রোগ্রাম অনুসরণ করছে তারা,যারা নিজেদের শিক্ষিত এবং অর্থের গরিমা নিয়ে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য সর্বোত্তম খাদ্যের অনুসন্ধান করেন।আজ এই শেষোক্তরাও ভিড় করছেন নানা রকমের নিরামিষ খাদ্য ও ফলের দোকানে।রাস্তায়,পার্কে,অলিতে গলিতে ভোরবেলায় প্রোটিকিন নির্ধারিত রোভিং করছেন,দৌড়াচ্ছেন।মোটরসাইকেল ছেড়ে সাইকেল,বা পায়ে হেঁটে শহরের দিকে যাচ্ছেন।

সভ্যতার নানা মরণ ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়ে আনন্দ ও কর্মশক্তিতে জীবনকে ভরপুর করে তোলার জন্য প্রোটিকিন ডায়েট তথা প্রোটিকিন প্রোগ্রাম কে কেন্দ্র করে পাশ্চাত্যে যে স্বাস্থ্য বিপ্লব শুরু হয়েছে এসবই তার কয়েকটি নমুনা।এ বিপ্লব শুধু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে নয় এই বিপ্লব ছড়িয়ে গেছে খেলোয়াড়,ক্রীড়াবিদদের রাজ্যেও।আজ দূরপাল্লার দৌড়বিদ থেকে শুরু করে ক্রিয়া জগতের বহু বিখ্যাত খেলোয়াড় অনুসরণ করছেন প্রোটিকিন প্রোগ্রাম।স্টেইক,চপ,আইসক্রিম প্রভৃতি যেসব খাদ্য বহুকাল থেকে খেলোয়াড়রা রক্ষাকবচ বলে গণ্য করতেন সেগুলি আজ তাদের জগৎ থেকে উধাও হয়েছে।সে জায়গায় এসেছে প্রোটিকিন অনুমোদিত প্রকৃতিজাত স্বাভাবিক খাদ্য অর্থাৎ শস্যদানা,শাকসবজি,ফলমূল প্রভৃতি।এই জাতীয় খাদ্য অ্যাথলেটদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উদ্যম ও শক্তি যোগায়।

কিন্তু খাদ্যাভাস বদলানো মানুষের পক্ষে একটি দুরূহতম ব্যাপার।একমাত্র প্রকৃত জ্ঞানের আলোয় জীবনকে আলোকিত করার সঙ্গে আসে প্রাণীজ প্রোটিন,ফ্যাট আর নানাবিধ,সৌদিত,কৃত্রিম,বিকৃত খাদ্য থেকে সরে এসে,প্রকৃতিজাত স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের প্রতি অসীম আগ্রহ।যেসব জ্ঞানী-গুণীজন স্বল্প ফ্যাট,স্বল্প প্রোটিন সহ প্রকৃতিজাত খাদ্যের উপকারিতা শুনেছেন তাদের তালিকা টি অবশ্যই দীর্ঘ।সবচেয়ে বড় কথা,প্রোটিকিন সাফল্যের উজ্জ্বলতম উদাহরণ প্রোটিকিন নিজেই।

Check Also

পুরুষের গুণাগুণ বিচার

সর্বতােভাবে সুখী হয় সেই ব্যক্তিই যার কণ্ঠস্বর , বুদ্ধি ও নাভি গভীর । হয় । …