বন্ধু বন্ধুত্ব ও স্বাস্থ্য

Activity

80

User Rating: 4.7 ( 1 votes)

বন্ধু আর বন্ধুত্ব মানুষকে সুখে রাখে আর সুস্থ রাখে।ভালো বন্ধু পেলে জীবন হয় আনন্দময়।ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে যখন একত্র হওয়া যায়,তখন হইহুল্লোড় করে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।শরীর ও সুস্থ হয়ে যায় মনে হয় আয়ু বেড়ে গেছে।উৎসব আনন্দে সুখ-দুঃখের রাজ্য দ্বারে শ্মশানে সর্বত্র যে থাকে সেই তো বন্ধু।এমন বন্ধু এখন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।তবুও বিপদ-আপদের যে পাশে থাকে সেই তো বন্ধু।পরিতৃপ্ত বন্ধুত্ব রক্ষা করতে পারে মানুষকে স্থূলতা,বিষন্নতা ও হৃদরোগ থেকে অনেকটাই।

জীবনভর বন্ধুঃ-সারা জীবনের বন্ধুটি বুড়ো বয়সে চোখে বাইফোকাল লেন্সের চশমা করলেও দেখতে পায় ১৬ বছরের উচ্ছল তরুণী কে।স্টেজ কাঁপানো,নেচে বেড়ানো,অনেক ছেলেকে অনেকে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো সেই তরুণীকে দেখতে পায়।এই বুড়ো বয়সেও মনে করি যে রকম ছিলে সেরকমই আছে।নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামকরা বন্ধুত্ব গবেষক ও সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডক্টর রেবেকা জি অ্যাডামস বলেন সে কথা।দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সত্যি বিশেষ জন।তিনি বলেন এ ছাড়া আর কে জানতে পারেন আপনার পরিবারে যখন ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হলেন,কে জানে এই বেড়ে ওঠার বয়স গুলোতে আপনাকে?ছেলে বেলার বন্ধু ছাড়া আর কে জানে এই অতীতের ইতিহাস।এই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা চাই।চিঠি লিখে ফোন করে মেইল করে না হলে ফেসবুকের মাধ্যমে।পরিকল্পনা করুন বন্ধুদের সঙ্গে একত্রে বেড়াবেন অবকাশের সময়,ডিজিটাল ফটো এলবাম এর সংযোগ ভাগাভাগি করুন না!কিছু না হলে মাঝেমধ্যে ছোট্ট চিঠি লিখলে হয়।

একজন নতুন বন্ধুঃ-পুরনো বন্ধুদের যেমন আপনার সম্পর্কে ধারণা আছে,নতুন বন্ধুদের কিন্তু তেমন আগে জানা কোন ধারণা নেই।মনোবিজ্ঞানী ডক্স পামেলা মেকলিন বলেন যত বুড়ো হই আমরা যেন জীর্ণ হয়ে যাই।নতুন বন্ধুরা চিন্তাভাবনার নানা দারা কে উস্কে দেয়,এতে তাজা টাটকা অনুভূতি পাওয়া যায়।এর চেয়ে বড় কথা হলো,নতুন বন্ধুরা অন্য কিছু লোকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে দেয়।

শরীরচর্চার বন্ধুঃ-লেকের পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলেন ব্যায়াম করা,যেমন হাঁটা,গলফ খেলা,টেনিস খেলা,নিত্য যাই হোক,যেকোনো একটি করতে পারেন দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও আয়ু বৃদ্ধির জন্য।এক বছর পর্যন্ত ব্যায়ামের নতুন কর্মসূচি টিকিয়ে রাখার জন্য জোরালো সামাজিক সমর্থন প্রয়োজন।হাঁটতে হাঁটতে একটি লক্ষ্য স্থির করলে হাঁটার জন্য সঙ্গী পেলে ভালো।অনেক সময় স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে হাঁটতে পারলে ভালো।তা নাহলে সমবয়সী কয়েকজন বন্ধু মিলে হাঁটা।

আত্মার বন্ধু,আধ্যাত্মিক বন্ধু;-গবেষণায় দেখা গেছে আধ্যাত্মিক কোন গোষ্ঠীর সদস্য হলে মানুষের মধ্যে আসে স্থিতিস্থাপকতা।ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এক গবেষণা থেকে জানা যায়,যারা নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন বা ঈশ্বরের প্রার্থনা,ধ্যানচর্চা,ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মত কাজ ও ধর্মাচার করেন,তাদের ছয় বছর কালের মধ্যে মৃত্যুবরণের আশংখা,যারা এসব কাজ করবেন না,তাদের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম।মসজিদ মন্দির বা গীর্জা এসে ধর্মাচরণের সময় অনেকেই পেয়ে যান এমন বন্ধু।এই বন্ধুদের সংস্পর্শে এসে আত্মা ও মনের যথেষ্ট উন্নতি হয়।

একজন তরুণ বন্ধুঃ-আপনার ছেলে মেয়ে হতে পারে দুই প্রজন্ম ছোট,তবু এই তরুণ বন্ধুটি জানতে চায় অনেক কিছু।গবেষণায় দেখা গেছে অন্যের কাছে উপকারী কোন কাজ লালন করা বা অনুভবে রাখা হলো সুখী জীবনের চাবিকাঠি।মানুষ চায় পুরনোদের অভিজ্ঞতার অংশীদার হতে।জীবনে ঠেকে যা শিখলেন,এই অভিজ্ঞতা অন্যকে দিলে তবে না বেশ হলো।সন্তান লালন পালন করে অনেক নারী এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগান পুষিয়ে নেন খায়েশটা।কিন্তু এক সময় হয় যখন বাচ্চারা বড় হয় ঘরের বাহিরে চলে গেলে,নিজের মত করে সংসার গড়ে নিল,একা হয়ে গেলেন তখন তরুণ ছোট বন্ধুদের তদারকি করে পুরনো স্বাদ ফিরে পাওয়া যায়।এই বন্ধুত্বের সুফল পাওয়ার জন্য দুই তরফ থেকে আন্তরিকতা চাই।

Check Also

পুরুষের গুণাগুণ বিচার

সর্বতােভাবে সুখী হয় সেই ব্যক্তিই যার কণ্ঠস্বর , বুদ্ধি ও নাভি গভীর । হয় । …