মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ভাল ঘুম নিয়ে আসার কার্যকরী ৫ টি উপায়

User Rating: 4.5 ( 1 votes)

ঘুম নিয়ে মানুষের সমস্যার কোনো কমতি নেই।বেশিরভাগ মানুষ সময় মত ঘুমাতে পারেন না।বিছানায় শোবার পর ঘুম আসার কোন খবর থাকে না।যার ফলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।যাই হোক,আমাদের সকলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ও সময় মতো ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।এর জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলেই নিদ্রা জনিত সমস্যা দূর হতে পারে।আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই জাদুকরী উপায় গুলি………

১।ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে পড়ুনঃ-ঘুম আনয়নের সব থেকে সহজ উপায় হলো বিছানায় যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয় বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন।তারপর বিছানার পাশে হালকা আলোর বাতিতে বই পড়ুন।কোন মজাদার বই পড়ার দরকার নেই,এমন কোন বই পড়ুন যাতে আপনার বিরক্তি বোধ হয় এবং আপনি গুম অনুভব করেন।বই পড়ার কারণে আপনি ইলেকট্রনিক পণ্য অর্থাৎ মোবাইল,ট্যাব,টিভি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকবেন।যার ফলে আপনার ঘুমের সমস্যা রোধ হবে।তাই আগামী বার থেকে আপনার বিছানায় একটি বই রাখবেন।

২।বিছানায় যাবার সময় নির্ধারণ করুনঃ-একটি নির্ধারিত সময় অবশ্যই আপনার বিছানায় যাবার জন্য নিজেকে বাধ্য করেন।এর ফলে আপনার ঘুমের সমস্যায় যথেষ্ট উপকার পাবেন।এর ফলে শুধু আপনার শারীরিক উন্নতি নয়,মানসিকভাবেও অনেক সুফল ভোগ করবেন।একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করলে সেই সময়ে প্রাকৃতিক ভাবেই জিম ভাব চলে আসবে।তখন আপনার ঘুমাতে যেতে হবে।ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও একই।সময়মতো ও একই সময়ে ঘুমানোর কারণে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও মিলাটোনিন ঠিক মতো কাজ করতে পারে।যার ফলে আপনার সারকাডিয়ান তালের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।তাহলে এটা বলা বাহুল্য যে ভালোভাবে ঘুমের জন্য সঠিক সময়ে ঘুমানো অপরিহার্য।

৩।স্বাস্থ্যকর ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করুনঃ-সব কিছুর ক্ষেত্রে সকলেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।আপনি শুনে অবাক হতে পারেন যে,ভালো ডায়েটের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক রয়েছে।গবেষণায় দেখা গেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার ফলে শরীরের পালস এর গতি বৃদ্ধি পায়,যার ফলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়।খাবারের ফলে শরীরের মেগনেশিয়াম,পটাশিয়াম এবং অন্যান্য অপরিহার্য খনিজ এর চাহিদা পূরণ হয়।এছাড়া সঠিক ডায়েটের কারনে শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।যা সঠিক সময়ে ঘুম আসার সাথে সাথে সঠিক সময়ে জাগ্রত হবার জন্য সাহায্য করে।

৪।আপনার কক্ষ ঠান্ডা রাখুনঃ-ঘুমের সময় আপনার শয়ন কক্ষ টি খুব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।বছরের পর বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে,ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরে তাপমাত্রা আরও 

বৃদ্ধি পায়।তাই যতটা সম্ভব ঘরের তাপমাত্রা ঠান্ডা রাখলে ঘুম ভালো হয়।তবে কক্ষের তাপমাত্রা বেশি ঠান্ডা করার প্রয়োজন নেই।পাখা চালিয়ে রাখলেই যথেষ্ট।দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছেন।

৫।গরম দুধ পান করুনঃ-আগের দিনের মানুষেরা বিশ্বাস করতো ঘুমের আগে গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়।তাদের এই বিশ্বাস এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।মনো বিজ্ঞানীদের মতে,ঘুমাতে যাবার পূর্বে গরম দুধ পান করার ফলে মানসিক প্রশান্তি বিরাজ করে।এতে সারা রাতের ঘুম ভালো হয়।শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।যার ফলে ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

এই পাঁচটি কাজ অভ্যাসের পরিবর্তন করলে প্রতিদিন রাতে বিছানায় যাবার মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম চলে আসবে।তাই যাদের ঘুম নিয়ে সমস্যা রয়েছে,তারা এ পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

Check Also

পুরুষের গুণাগুণ বিচার

সর্বতােভাবে সুখী হয় সেই ব্যক্তিই যার কণ্ঠস্বর ,  বুদ্ধি ও নাভি গভীর । হয় ।  …